করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জাতীয় তহবিল গঠন করুনঃ ছাত্র ইউনিয়ন

১৯ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জাতীয় তহবিল গঠন করুনঃ ছাত্র ইউনিয়ন

সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অভিন্ন আর্থিক নীতিমালা প্রদানের দাবি

গত ১৭ মার্চ ২০২০, রোজ মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরী ও বিতরণের কাজ করে যাচ্ছে। গত তিনদিনে তারা চার হাজার বোতলেরও বেশি হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে, যার পুরো অর্থায়ন হয়েছে সাধারণ মানুষের দেয়া টাকায়। বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় আশি হাজার টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে, যার পুরোটাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরীতে ব্যয় হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতিটি বোতলের আয়তন একশত মিলিলিটার, এবং একটি বোতল একজন মানুষ এক সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারেন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কতটা প্রয়োজনীয় তা আপনাদের কারোর অবিদিত নয়। কিন্তু কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে তিরিশ থেকে চল্লিশ টাকা বাজারমূল্যের একেকটি হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল ঢাকা শহরে আড়াইশো থেকে তিনশো টাকাতেও আমরা বিক্রয় হতে দেখেছি। তাই ছাত্র ইউনিয়ন তার হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরীর প্রকল্প চালিয়ে যাবে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর হাতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পৌঁছে দেয়া। শাহবাগ, পল্টন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাশাপাশি গত তিনদিনে তাই কামরাঙ্গীরচর, আমিনবাজার, সাভার ও টঙ্গীতেও ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের বিশেষ লক্ষ্য সেইসব অবহেলিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষীনতম আশ্বাসটি পৌঁছে দেয়া, যাদের সংক্রমণের ঝুঁকির কথা সরকার বা ক্ষমতাশীলরা ভাবছেই না। এর মাঝে আছেন গার্মেন্টস শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে হোটেল কর্মচারী ও রিকশাচালকেরা।

ছাত্র ইউনিয়নকে সাহায্য করতে ডক্টরস ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড আর্কিটেক্টস ফর এনভায়রনমেন্ট এন্ড ডেভেলপমেন্টের মতো বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান। একশো মিলিলিটারের একটি বোতল তৈরী করতে ছাত্র ইউনিয়নের মাত্র পঁচিশ টাকা খরচ হচ্ছে, যা শুনে চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা প্রভৃতি বিভাগীয় ও জেলা শহর থেকে মানুষ ছুটে এসেছেন, ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের কাছ থেকে এই স্যানিটাইজার তৈরীর উপায় জেনে নিচ্ছেন। এই কর্মযজ্ঞে বিশেষভাবে সাহায্য করছেন ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান ও ফার্মেসী অনুষদে অধ্যয়নরত নেতাকর্মীরা।

এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল ও সাধারণ সম্পাদক অনীক রায় বলেন, “এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানোর কাজটিই যথেষ্ট নয়। আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে, যতটা সম্ভব জনসমাগমের পরিমাণ হ্রাস করতে হবে। আমাদের কক্সবাজার ইউনিট ভ্রমণার্থীদের ভিড় না করবার জন্য সমুদ্রসৈকতে আহ্বান জানাচ্ছেন। এই ক্রান্তিকালে, ভ্রমণ বা অন্য যে কোনো উদ্দেশ্যেই হোক, ভিড় সৃষ্টি না করাই মঙ্গলজনক”।

বর্তমান সরকারের ভূমিকার নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন, “সরকার আইইডিসিআর ছাড়া আর কোথাও পরীক্ষণের অনুমতি দিচ্ছে না, সত্যিকার আক্রান্তের সংখ্যা গোপন করার চেষ্টা করছে। এটি কোনো সভ্য দেশের সরকারের কাজ হতে পারে না। হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ আর জনসচেতনতা তৈরীর কাজে ছাত্র ইউনিয়ন তার সবটুকু ঢেলে দিচ্ছে, কিন্তু অসুস্থদের চিকিৎসার ভার সরকারকেই নিতে হবে। তা না করে অসুস্থের সংখ্যা গোপন করার অর্থ, বর্তমান সরকার নিজেকে জনগণের অভিভাবকের রূপে নয়, শোষকের রূপেই দেখতে চায়। আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি, অবিলম্বে করোনাভাইরাস পরীক্ষণের ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করুন; সবাই যাতে স্বাস্থ্যসেবা ভোগ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে বেসরকারী হাসপাতালগুলোকে অভিন্ন আর্থিক নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসুন; করোনা প্রতিরোধ ও প্রতিকারে একটি জাতীয় তহবিল গঠন করুন। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দিতে চাই, জনগণের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেললে বাংলার মানুষ আপনাকে কোনোদিন ক্ষমা করবে না”।

বার্তা প্রেরক
ফয়জুর মেহেদী
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন

Leave a Comment