স্বাস্থ্যখাতে উপেক্ষা, গোরস্থানে পরিণত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

১০ এপ্রিল ২০২০, শুক্রবার

স্বাস্থ্যখাতে উপেক্ষা, গোরস্থানে পরিণত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

সকল সরকারী-বেসরকারী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে আনতে হবে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার আওতায়, দরকার পর্যাপ্ত আইসিইউ-ভেন্টিলেটর

করোনা মোকাবেলায় অভিন্ন ব্যবস্থাপনা চালুর লক্ষ্যে সরকারী হাসপাতালের পাশাপাশি করোনার প্রাদুর্ভাব শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সমস্ত বেসরকারী হাসপাতালগুলোকে জাতীয়করণ/ জাতীয় ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা, হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত না করে  করোনার সংক্রমণ রোধে  সকল হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, স্টেডিয়াম সহ আবাসন সুবিধাসম্পন্ন সরকারি বেসরকারি ভবনকে করোনা পজেটিভ  রোগীদের  ‘সেলফ আইসোলেশন জোন’ হিসেবে রূপান্তর ও করোনার মহামারি মোকাবেলায় অধিকসংখ্যক মানুষের নমুনা সংগ্রহের লক্ষ্যে নমুনা পরীক্ষার কেন্দ্র ও টেস্ট কিট বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশে ছাত্র ইউনিয়ন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানান তারা। 

গত জানুয়ারিতে চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সব রের্কড ছাড়িয়ে যাবার সময় থেকে মহামারী মোকাবেলায় তিন মাসেরও বেশী সময় পেয়েছিলো বাংলাদেশ সরকার। তবে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় সরকারের ব্যার্থতা এই সংকটকে আরো ঘণীভূত করে তুলেছে। সরকারের সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে একদিকে কভিড-১৯ এর সংক্রমণ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে কোন রকম দূরদর্শী পরিকল্পনা ছাড়া সরকারি সাধারণ ছুটিতে (কার্যত লকডাউন) কর্মহীন হয়ে অর্থাভাবে ধুকছে দেশের সাধারণ জনগণ। “বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং হচ্ছে, প্রয়োজনীয় পিপিই স্টক আছে, আমরা করোনার চেয়ে শক্তিশালী” -সরকারের এ রকম অজস্র আশ্বাসের মাঝখানে সংক্রমণের বাড়ছে জ্যামিতিক হারে, মৃত্যুর মিছিল প্রতিদিন আরো দীর্ঘ হচ্ছে। সংক্রমণের এক মাস(৮ এপ্রিল) পর বাংলাদেশে মৃত্যুর হার(১১.৫%) হয়েছে বিশ্বে সর্বোচ্চ।

এ প্রসঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল ও সাধারণ সম্পাদক অনিক রায় এই যৌথ বিবৃতিতে বলেন, এখন পর্যন্ত জেলা শহর গুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন সেন্টার, করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রস্তুত নেই। যেখানে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো দেশের পাঁচ তারকা হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, স্টেডিয়াম গুলোকে পর্যন্ত আইসোলেশন সেন্টারে পরিণত করছে সেখানে  বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত জেলা শহর গুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন সেন্টার, করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল, পর্যাপ্ত আইসিইউ, ভেন্টিলেটর প্রস্তুত নেই। আঠারো কোটি মানুষের দেশে মাত্র ৫৫০টি ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এতেই বোঝা যায় এই মহামারী মোকাবেলায় সরকারের আন্তরিকতা কতটুকু।

তারা আরো বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সম্মুখযোদ্ধা চিকিৎসকদের এখন পর্যন্ত পুরোপুরি ভাবে পিপিই বরাদ্দ করা হয়নি। আক্রান্ত কিংবা আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যদের অনেকজনকেই আইসোলেশন সেন্টার বা হাসপাতালে না এনে বাড়িতেই কোয়ারেন্টিন করে রাখা হচ্ছে যা আক্রান্তদের যথাযথ সেবা পাওয়ার সন্দেহের উদ্রেক করে। তাই জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল গুলোকেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন সেন্টারের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা কাঠামোতে বেসরকারি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যাই বেশী। যেখানে ৬৪৫টি সরকারি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ৫১,৩১৬টি, সেখানে ৫০৫৫টি বেসরকারি হাসপাতালে ৯০ হাজারের বেশী শয্যা রয়েছে। এই বৃহৎ অবকাঠামোকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিয়ে এসে অভিন্ন সেবামূল্য নির্ধারণ করা না গেলে, জনগণের স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। একই সাথে আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন সম্ভব না হলে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর মিছিলের লাগাম টানা সম্ভব হবে না।

এই সংকটময় অবস্থায় দেশের সকল বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গুলোকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় এনে, অভিন্ন সেবামূল্য নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে দেশের সকল পাঁচ/চার/তিন তারকা মানের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, স্টেডিয়াম গুলো সহ আবাসন সুবিধা আছে এমন সকল সরকারি, বেসরকারি ভবনকে আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তর করে নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের ক্রান্তিলগ্নে গার্মেন্টস মালিকদের লোভী প্রবৃত্তিকে উস্কানি দেয়া সহ সরকারের নানা সিদ্ধান্ত এরমধ্যেই দেশবাসীকে ভয়াবহ বিপদের সামনে দাঁড় করিয়েছে। এমন অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা খাতকে সরকারি ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনবোধে জাতীয়করণ করে জনগণের চিকিৎসা নিশ্চিত না করলে এই মৃত্যুমিছিলের প্রত্যেকটি লাশের দাম এই সরকারকেই চুকাতে হবে।

 

বার্তা প্রেরক
ফয়জুর মেহেদি
দপ্তর সম্পাদক

Leave a Comment

bn_BDBengali