ছাত্র ইউনিয়নের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

সংক্ষেপে ছাত্র ইউনিয়নের ৬৮ বছরের পথচলা

প্রাক-কথন

২০০ বছরের ইংরেজ শাসনের পর ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে ব্রিটিশ ক্যাবিনেট মিশন ভারতীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করছিলেন। সিদ্ধান্তানুযায়ী গণভোট হলো। ভারত ও পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্র হিসাবে জন্ম নিলো। মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র হলেই এই উপমহাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জীবনে সুখের নদী প্রবাহিত হবে এই প্রচারণায় মানুষের মনে আশাও জেগেছিল। কিছুদিন পরেই মোহভঙ্গ হলো। ১৯৫০-৫১ সালের কোরিয়া যুদ্ধে আন্তর্জাতিক বাজারে পটের দর মন প্রতি ১২৫ বা তারও বেশি তখন পাট উৎপাদনকারী বাঙ্গালি কৃষকরা পেল ২০ টাকা করে। সুখের নদী বইতে শুরু করলো তবে তা মুষ্টিমেয় অবাঙ্গালি শিল্পপতিদের জীবনে। বাঙ্গালি মুসলমানদের স্বপ্নভঙ্গের সূচনা হয়। এরমধ্যে জিন্না সাহেব ঘোষণা করলেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। অথচ তখন পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ ভাগ উর্দুতে কথা বলে। ফলে পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষাভাষী ও পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য ভাষাভাষীদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ দেখা দিলো। 

পূর্ব পাকিস্তানে মাহবুব আলীকে আহ্বায়ক করে “বাঙলা ভাষা সংগ্রাম পরিষদ” গঠন করা হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান) হরতাল আহ্বান করা হয়। ওদিকে শাসকগোষ্ঠী জারি করে ১৪৪ ধারা। ১৪৪ ধারা ভাঙ্গন প্রশ্নে ছাত্রদের মধ্যে অনৈক্য দেখা গেল। মুসলিম ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার ব্যাপারে মত দিলোনা। অন্যদিকে একদল প্রগতিশীল ছাত্র ১৪৪ ধারা ভাঙ্গার ব্যাপারে অটুট রইলো। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমতলা থেকে ছাত্ররা ১০ জন করে রাস্তায় বের হয় এবং মিছিল করতে থাকে। পুলিশ গ্রেফতার করে। হটাত পুলিশ গুলি বর্ষণ করে। শহীদ হলো সালাম, রফিক, জব্বার সহ নাম না জানা আরও অনেকেই। সালাম রফিক প্রমুখ শহীদের রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল করতে লাগলো ছাত্ররা। ৫ মার্চ পর্যন্ত আন্দোলন চললও। তারপর তীব্র দমননীতি, গ্রেফতার, হুলিয়ার ফলে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়। বেশিরভাগ ছাত্রনেতা তখন জেলে নয়তো আত্মগোপনে।